ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের পাছদরিল্লা গ্রামে আবাসিক এলাকার ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপিত মুরগির খামারের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তীব্র দুর্গন্ধ, মাছি-মশার উপদ্রব আর পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আনজু মিয়া তার নিজস্ব বসতবাড়ি দূরে থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশীর বসতবাড়ির মাত্র ১০ ফুট দূরে দুইটি বাণিজ্যিক মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। খামার স্থাপনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাকে শিশুদের স্বাস্থ্য, খাবার-দাবার এবং রাতের ঘুমের সমস্যার কথা জানিয়ে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে জোরপূর্বক খামার চালু করেন।
ভুক্তভোগী এক পরিবারের সদস্য বলেন, “খামার থেকে প্রতিদিন মুরগির বিষ্ঠার এমন দুর্গন্ধ আসে যে ঘরে বসা যায় না। রাতে ঘুমানো যায় না, খাবারে রুচি থাকে না। বাচ্চারা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মেহমান এলে তারাও এক ঘণ্টার বেশি থাকতে পারে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, খামার চালু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় মাছি-মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও পেটের রোগের প্রকোপ বেড়েছে। রান্না-বান্না করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে কারণ খাবারে মাছি বসে যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির বিষ্ঠা থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া গ্যাস এবং ব্যাকটেরিয়া শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আবাসিক এলাকায় এভাবে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার পরিচালনা করা ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৫’ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরেজমিনে তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে খামারটি অবিলম্বে অন্যত্র স্থানান্তর করা হোক। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আনজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
www.somoyerprothomsangbad.com ইমেইল: samoyerprothomsongbad@gmail.com
ফোন- 09638147304 - মোবাইল: +৮৮ ০১৫১১-১২৯১০৩, বিজ্ঞাপনের জন্য কল করুনঃ +88 01618129103
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত